৫০/৩০/২০ নিয়ম: বেতন থেকে সঞ্চয় করার সহজ উপায়
কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? বেতনকে তিন ভাগে ভাগ করার জনপ্রিয় ৫০/৩০/২০ নিয়মটি দেখুন।
এই লেখায় কী আছে
বাজেট বানাতে গিয়ে অনেকে প্রথমেই আটকে যান: কোন খাতে কত রাখব? এর জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি সহজ কাঠামো আছে, ৫০/৩০/২০ নিয়ম। নিয়মটি মনে রাখা সহজ, আর শুরু করার জন্য খুব ভালো।
নিয়মটি কী বলে?
আপনার হাতে আসা আয় (কর কাটার পরের টাকা) তিন ভাগ করুন:
- ৫০% প্রয়োজন: বাসা ভাড়া, খাবার, বিল, যাতায়াত, কিস্তি, বাচ্চার পড়াশোনা
- ৩০% চাওয়া: বাইরে খাওয়া, শপিং, ঘোরাফেরা, সিনেমা, শখের জিনিস
- ২০% সঞ্চয় ও ঋণ শোধ: জরুরি তহবিল, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, বাড়তি ঋণ পরিশোধ
একটি উদাহরণ
ধরুন মাসে হাতে আসে ৪০,০০০ টাকা। তাহলে:
- প্রয়োজনে ২০,০০০ টাকা
- শখ ও চাওয়ায় ১২,০০০ টাকা
- সঞ্চয় ও ঋণ শোধে ৮,০০০ টাকা
আমাদের দেশে কি এটা মেলে?
সত্যি কথা, বড় শহরে বাসা ভাড়াই অনেক সময় আয়ের ৫০%-এর বেশি খেয়ে ফেলে। তাই নিয়মটিকে কঠোর আইন ভাববেন না। নিজের অবস্থা অনুযায়ী মানিয়ে নিন, যেমন ৬০/২৫/১৫। আসল কথা হলো সঞ্চয়ের একটা ভাগ আগে থেকে ঠিক করে রাখা।
সঞ্চয়ের ২০% কীভাবে ব্যবহার করবেন?
- জরুরি তহবিল: প্রথমে অন্তত ৩ মাসের খরচের সমান টাকা আলাদা রাখুন।
- ঋণ শোধ: চড়া সুদের ঋণ থাকলে আগে সেটা কমান।
- দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়: সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা অন্য নিরাপদ মাধ্যমে জমান।
কাজে লাগানোর কৌশল
- বেতন হাতে পাওয়ার দিনই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলুন।
- "চাওয়া" খাতের জন্য সপ্তাহভিত্তিক সীমা রাখুন, মাস শেষে টান পড়বে না।
- প্রতি মাসে দেখুন তিনটি ভাগ আসলে কত শতাংশে গেল।
এই হিসাব মেলাতে একটি গোছানো ফাইল কাজে আসে। বাৎসরিক বাজেট প্ল্যানার-এ মাসিক পরিকল্পনা বনাম আসল খরচ পাশাপাশি দেখা যায়, সাথে থাকে সঞ্চয়ের লক্ষ্য ট্র্যাকার।
শেষ কথা
পারফেক্ট হিসাব দরকার নেই। দরকার একটি নিয়ম আর তা মেনে চলার অভ্যাস। আজই আপনার আয়কে তিন ভাগে ভাগ করে দেখুন কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন।